বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশাল সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার পর চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা-তলোয়ার হাতে মিছিল নিয়ে শহরে ঢোকার চেষ্টা করে। অরাজক পরিস্থিতি এড়াতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় তারা ঢুকতে পারেনি। যেকোন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি রুখতে হার্ডলাইনে রয়েছে পুলিশ। সোমবার (১২ জুন) দুপুরে নগরীর ছাবেরা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে বের হওয়ার পর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথার কাছে হাতপাখার প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অপরদিকে, আওয়ামী লীগের প্রশ্ন ভোট চলাকালে চোরমোনাইয়ের পীরের দলটির সমর্থকরা কীভাবে লাঠিসোটা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কীভাবে আসে, প্রশ্ন বরিশাল আওয়ামী লীগের।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া অভিযোগে ফয়জুল করীম অভিযোগ করেছেন, ৩০-৪০ জন ‘নৌকা সমর্থক’ অতর্কিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলায় তিনি রক্তাক্ত হয়েছেন। প্রার্থী ফয়জুল করীমের ওপর হামলার খবর পৌঁছার পর পরই চরমোনাই পীরের অনুসারীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে লাঠিসোটা নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কাশীপুর বাজার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে শত শত মানুষ মিছিল নিয়ে নগরীর ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে।
বরিশাল এয়ার পোর্ট থানার ওসি হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন, পরে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বরিশাল বন্দর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, “দুপুরের পর তারা জড়ো হয়েছিলেন। পরে তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
চরমোনাই পীরের সমর্থকরা হামলার পর বরিশাল নগরীতে ঢোকার চেষ্টা করছে, বিষয়টি নজরে আনলে ঢাকায় নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খান বলেন, “এই ঘটনা ম্যানেজ করে প্রতিহত করা হয়েছে।”
বাড়তি নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, “ওখানে র্যাব, বিজিবি, পুলিশ সবাইকে নিয়োজিত করে বিশেষ করে নদীর ওপাশ থেকে যারা আসছিল, নৌ-পুলিশ (কোস্টগার্ড) দিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করা হয়েছে, তারা যেন এখানে ঢুকে বিশৃঙ্খলা না সৃষ্টি করতে পারে।
নগরীতে সকাল ৮টা থেকে ১২৬ কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিচ্ছিন্ন অভিযোগ ছাড়া ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে।
সোমবার (১২ জুন) দুপুরে অভিযোগে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বরাত দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মিডিয়া উপ-কমিটির সদস্য কে এম শরীয়াতউল্লাহ জানান, ছাবেরা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথার কাছে ৩০ থেকে ৪০ জন নৌকা সমর্থক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তারা লাঠিসোঁটা ও পাথর ব্যবহার করেন। তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এ সময় আহত হন।
হাতপাখার প্রার্থী নির্বাচন কমিশন ও মহানগর পুলিশের কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ঘিরে হঠাৎ কী নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু করল, ফট করে দেখি আমাকে ঘুষি দেওয়া শুরু করছে। কীসের আমার উপর হামলা, আমি নিজের লোকদের তখন সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে দিয়েছি। আমি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে ওদের পতন ঘটিয়ে মাঠ থেকে বিদায় হব।
“আমার গায়ে হাত দিয়েছে, রক্তাক্ত করেছে। (তখন তিনি নিজের নাকের রক্ত দেখান)। আমি কী করেছি? আমি একজন প্রার্থী। আমি তো তাদের মুরব্বি, আলেম মানুষ। আমার উপর আঘাত করতে হবে তাদের। অথচ আমি কিচ্ছু বললাম না।“
বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ পেয়েছি। কে বা কারা এই হামলা করেছে; উনার দাঁত ফেটে রক্ত বেরিয়েছে। সব জায়গায় সিসি ক্যামেরা আছে, আমরা তাদের বের করে ফেলব। “প্রার্থীর ওপর যেই হামলা করে থাকুক তার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার করা হবে।“ হামলার অভিযোগ মৌখিকভাবে পেয়েছেন জানিয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি অভিযোগ পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছি। “এই হামলাটি কেন্দ্রের বাইরে হয়েছে; ফলে ভোটের এর কোনো প্রভাব পড়েনি।”
বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র পদপ্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে এর সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। তারা প্রশ্ন তুলেছে, ভোট চলাকালে চোরমোনাইয়ের পীরের দলটির সমর্থকরা কীভাবে লাঠিসোটা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নগরীতে প্রবেশ করতে পারল?
সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নগরীর ১২৬ কেন্দ্রে টানা ভোটগ্রহণ হয়। এরপরই সংবাদ সম্মেলেনে এসে এই প্রশ্ন তুলেন নৌকা প্রতীকের মেয়র পদপ্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আফজালুল করিম।
সার্কিট হাউজের বিপরীতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “বরিশালে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরিশালবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীরা সহযোগিতা করেছেন। ভোটাররা লাইনে দাড়িয়ে সুন্দরভাবে ভোট প্রদান করেছেন।” সকাল থেকে ছোটখাট কিছু অভিযোগের বাইরে ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের লাইনও ছিল। এর মধ্যেই হাতপাখার প্রার্থী ফয়জুল করীমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এদিকে, বরিশালে মেয়র পদে ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দলীয়ভাবে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছে চারজন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম (হাতপাখা) ও জাকের পার্টির প্রার্থী মিজানুর রহমান বাচ্চু (গোলাপফুল)।
৩০টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮৯, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৯। ১২৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।’
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply